মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার পটভূমি

ক) নামকরণও ইতিহাস :- বিয়ানীবাজার নামের নেপথ্যে এক জনশ্রুতি রয়েছে।আজকের এই পৌরসদর তখন ছিল গহীন জঙ্গল ও টিলা বেষ্টিত ভূমি। সিলেটের প্রথম রায় বাহাদুর হরেকৃষ্ণ রায় চৌধুরীর পুত্র কৃষ্ণ কিশোর পাল চৌধুরী এই জায়গায় একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।এই জায়গায় প্রতিদিন বিহানবেলা(সকালবেলা) হাট বসত।হিংস্র জন্তুদের ভয়ে লোকজন কেনাকাটা সেরে দিনের আলোয় যার যার আস্তানায় ফিরে যেতো।বিহানবেলা এই হাট বসতো বলে এই স্থানের নামকরণ করা হয় বিহানীবাজার অর্থ্যাৎ বিয়ানীবাজার।

 

খ) ইতিহাসঃ- বিয়ানীবাজার এর নিদনপুর গ্রামের মশরফ আলীর বাড়িতে ১৩৯৯ বাংলায় মাটির স্ত্তপ খনন কালে ৬টি খন্ড ও একটি গজ চিহুিত তাম্র নির্মিত রাজকীয় ৭টি শীল পাওয়া যায়।এইসব প্রাপ্ত শিলালিপির মাধ্যমে ’ময়ুর শাশ্বল’ নামক ক্ষেত্রটি ব্রাক্ষণদের নিষ্কর দানের নির্দশন পাওয়া যায়। এই সব তাম্রপত্রে খোদিত ছিল কামরুপ অধিপতির রাজকীয় ঘোষণার প্রতিফলন । তৎকালীন স্থানীয় জমিদার পবিত্রনাথ দাস তাম্রশাসন গুলো সংগ্রহ করে কলকাতার যাদু ঘরে হস্তান্তর করেন।প্রত্নতাত্বিক নির্দশনের মধ্যে বিয়ানীবাজারে প্রাপ্ত এই তাম্রলিপি গুলো সবচেয়ে প্রাচীন। সিলেটের শেষ হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দের রাজ্যবসানের পর্ব পর্যন্ত এই সিলেটের পঞ্চখন্ড অঞ্চল ধর্মপালের অধীনে পাল সম্রাজ্যভূক্ত ছিল। পাল বংশের বানারসী পাল খাসায় একটি সুবৃহৎ দীঘি খনন করেন যাহা বর্তমানে বারপালে্ দীঘি নামে পরিচিত এই পঞ্চখন্ডের প্রাচীন নাম ছিল চন্দ্রপুর বিষয় প্রায় ১শ’বছর পর পাল সাম্রাজের অবসান ঘটে। হযরত শাহজালাল(র:) এর সিলেট বিজয়ের (১৩০৩ খৃ:) পর এই জনপদ মুসলিম শাসনের আওতাভূক্ত হয়।বর্তমানে ঢাকার যাদুঘরে রক্ষিত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে অর্থ্যাৎ ১৫১২ খৃষ্টাব্দের একটি শিলালিপিতে শাহজালাল(র:) এর সিলেট বিজয়ের তারিখ খোদাই (খনন) করা রয়েছে্ সিলেট বিজয় পরবর্তী হযরত শাহজালাল তার সফর সঙ্গী(সিলেটের হায়দার গাজী নামে পরিচিত) নূরুল হুদা আবুল কেরামত সাঈদী হোসেনীর উপর এ জেলার শাসনভার অর্পন করেন। এ সময় হযরত শাহজালালের অন্যতম সফর সঙ্গী খাজা আদিনা (র:)সঙ্গীদের নিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য পঞ্চখন্ডে আসেন। যার সমাধি বিয়ানীবাজারের চারখাই আদিনাবাদে অবস্থিত। সেই থেকে পঞ্চখন্ড অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রভাব পড়েএবং দিনদিন তা জনপ্রিয়তা লাভ করে।৩৬০ আউলিয়ার সফরসঙ্গীদের আগমন ও পঞ্চখন্ডের বিভিন্ন স্থানে বহু অলি দরবেশের মাজার ইসলাম প্রচারের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এতদঞ্চলখানি ইসলাম প্রচারের মধ্য দিয়ে মুসলিম সভ্যতায় বিকশিত হয়।